রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব, কর্তব্য ও নিয়োগ

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশন সময়সূচি সম্বলিত প্রজ্ঞাপন জারী এবং অন্যান্য পরিপত্রের মাধ্যমে প্রধান প্রধান কার্যক্রমের পদ্ধতি সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। আজ এই পোস্টে আমি আপনাদের জন্য নির্বাচন কমিশনের আলোকে রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব, কর্তব্য ও নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। অথবা আপনি যদি রিটার্নিং অফিসারে কাজ কি অথবা এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাজ কি সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই পোস্ট আপনাকে এদের কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দিবে। 

রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব, কর্তব্য ও নিয়োগ
রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব, কর্তব্য ও নিয়োগ

২। সময়সূচি ঘোষণা : 

নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১১(১) অনুসারে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সময়সূচি ঘোষণা করেন। উক্ত সময়সূচি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন গেজেটে প্রকাশ করা হয়। সময়সূচিতে নিম্নলিখিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে :

  • (ক) রিটার্নিং অফিসার/সহকারী অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ; 
  • (খ) রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ;
  • (গ) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ;
  • (ঘ) ভোটগ্রহণের তারিখ।

আরো পড়ুন: প্রিজাইডিং অফিসারের প্রধান কাজ কি | প্রিজাইডিং অফিসার হওয়ার যোগ্যতা 2024

৩। নির্বাচনের সময়সূচি স্থানীয়ভাবে অবহিতকরণ : 

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ১১ (২) এর অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচির প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার রিটার্নিং অফিসার, যতশীঘ্র সম্ভব কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত তারিখসমূহ উল্লেখপূর্বক একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারী করবেন। গণবিজ্ঞপ্তিটি যে নির্বাচনি এলাকা সম্পর্কিত সে এলাকার কোন উল্লেখযোগ্য স্থান বা স্থানসমূহে প্রকাশ করবেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১১(৩) অনুসারে রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের আহ্বান জানিয়ে যথাশীঘ্র সম্ভব একটি বিজ্ঞপ্তি জারী করবেন এবং উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের স্থান, তারিখ ও সময় উল্লেখ থাকতে হবে ।

আরো পড়ুনঃ নির্বাচনে ভোটারদের করণীয় 2024 | দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৪। রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ : 

নিম্নের অনুচ্ছেদে রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিয়োগ পদ্ধতি বলা আছে। 

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের উদ্দেশ্যে এক বা একাধিক নির্বাচনি এলাকার জন্য একজন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করতে পারেন। রিটার্নিং অফিসারকে নির্বাচনি কাজে সহায়তাদানের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের উপর অর্পিত। তবে একজন সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে একের অধিক নির্বাচনি এলাকার জন্য নিয়োগ করা যায় না। গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারের এলাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

এক নজরে সংসদ নির্বাচনের অবস্থা: একনজরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নির্দেশিকা 2024

৫। রিটার্নিং অফিসারের এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব ও কর্তব্য :

আমরা যদি নির্বাচন কমিশনের আলোকে রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব, কর্তব্য আলোচনা করি তাহলে বর্ণনা করে শেষ করা যাবেনা। তাই এই দুই পদের সংক্ষেপে কাজের পরিধি আলোচনা করা হলো। 

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৭ অনুচ্ছেদে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বের বিধানাবলী রয়েছে। রিটার্নিং অফিসার আইন ও বিধিমালা অনুসারে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে যেরূপ কার্যাবলী সম্পাদন করা প্রয়োজন তা সম্পাদন করবেন এবং বিধানাবলী পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ এবং নিয়ন্ত্রণে থেকে রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট জেলার বা নির্বাচনি এলাকার সকল নির্বাচনি কাজের তদারকী করবেন এবং নির্বাচন কমিশন যেরূপ আদেশ বা নির্দেশ জারী করবেন তা যথাযথভাবে পালন করবেন। তাছাড়া রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিম্নরূপ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছেঃ 

  • (১) আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী মাননীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা সাপেক্ষে সহকারী রিটার্নিং অফিসার রিটার্নিং অফিসারকে তাঁর দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবেন।
  • (২) কোন ভোটারকে ভোটদানের সময় কোন প্রকার হস্তক্ষেপ বা হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা, ভোটগ্রহণে বাধাদান কিংবা ভোটদান হতে বিরত করা অথবা বাধাদানের প্রচেষ্টা অথবা যে কোন প্রকারে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা বা কোন ভোটারের উপর প্রভাব বিস্তার করা অথবা কোন প্রকার কাজ যা নির্বাচনি ফলাফলকে প্রভাবিত করে এরূপ কার্যকলাপের দায়ে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় কারণ লিপিবদ্ধ করে যে কোন সময় নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তাকে অথবা জনসাধারণের সেবায় নিয়োজিত কর্মী অথবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে কর্মস্থল হতে প্রত্যাহার করতে পারেন। সেই সাথে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কমিশন তার বিবেচনা অনুযায়ী কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করতে পারেন । 
  • (৩) কমিশন কর্তৃক কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে প্রত্যাহারের আইনত ক্ষমতা রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের রয়েছে। 
  • (৪) যদি কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তি কোন ভোটকেন্দ্রে বা নির্বাচনি এলাকায় কর্মরত থাকেন তাহলে তাকে তৎক্ষণাৎ ভোটকেন্দ্র বা নির্বাচনি এলাকা ত্যাগ করে চলে যেতে নির্দেশ দিতে পারবেন।
  • (৫) উক্তরূপ প্রত্যাহারের নির্দেশের ক্ষেত্রে, নির্দেশে উল্লিখিত সময়ের জন্য অনুরূপ কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে নির্বাচনি এলাকার বাইরে থাকার জন্য নির্দেশ দেবেন এবং তদানুযায়ী তিনি নির্দেশ মান্য করবেন এবং যদি তাকে কেবলমাত্র ঐ নির্বাচনি এলাকায় কোন সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হয় তা হলে তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তার ছুটি বা অন্যান্য বিষয়ের ব্যবস্থা করবেন।
  • (৬) অনুরূপ কর্মকর্তা বা ব্যক্তি সম্পর্কে শাস্তিমূলক বা অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি প্রেরণ করবেন। কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে প্রত্যাহার করা হলে কমিশন উক্ত কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে শৃংখলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিষয়টি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করবেন।

৬। সময়সূচি সংক্রান্ত গণ-বিজ্ঞপ্তি : 

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১১ এর দফা (২) ও (৩) এ বিধান রয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর, যথাশীঘ্র সম্ভব, রিটার্নিং অফিসারগণ তাদের আওতাভুক্ত নির্বাচনি এলাকাসমূহের জন্য পৃথক পৃথক গণ বিজ্ঞপ্তি জারী করবেন। কারণ সময়সূচি সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব, কর্তব্য।  উক্ত গণ বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন কর্তৃক ঘোষিত সময়সূচির উল্লেখ থাকবে। এতভিন্ন রিটার্নিং অফিসার/সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের স্থান ও সময় উল্লেখ করে একই গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মনোনয়নপত্র আহ্বান করতে হবে। মনোনয়নপত্র অফিস চলাকালীন সময় গৃহীত হবে। নিম্নে গত বিজ্ঞপ্তির একটি নমুনা দেয়া হল :

গত বিজ্ঞপ্তির একটি নমুনা
গত বিজ্ঞপ্তির একটি নমুনা

৭। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং দাখিল : 

(১) নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর ৩ বিধি অনুসারে মনোনয়নপত্র সরাসরি বা অনলাইনে দাখিল করা যাবে :

যথা :

  • (ক) কোন প্রার্থী বা প্রস্তাবকারী বা সমর্থনকারী বা প্রার্থীর প্রতিনিধি মনোনয়নপত্র দাখিলের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট হতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে তা সরাসরি দাখিল করতে পারবেন ; অথবা
  • (খ) অনলাইনে মনোনয়নপত্র পূরণ ও দাখিলের জন্য কোন প্রার্থী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর ওয়েবসাইটের (www.ecs.gov.bd) সংশ্লিষ্ট লিংকে (পোর্টাল) প্রবেশ করে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর পোর্টালে লগইন করে মনোনয়নপত্র পূরণ ও দাখিল করতে পারবেন।

(২) অনলাইনের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে,

  • (ক) অনলাইনে মনোনয়নপত্র পূরণ ও দাখিল করার উদ্দেশ্যে পোর্টালে প্রবেশ করে তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা ভোটার নম্বর, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল আইডি এবং নির্বাচনি এলাকার নম্বর ও নাম এন্ট্রি করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে ; রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ড পাওয়া যাবে ;
  • (খ) জাতীয় পরিপয়পত্রের বায়োমেট্রিক ফিচারে সংরক্ষিত মুখায়ব তথ্যের সাথে প্রার্থী, প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর চেহারা সনাক্তকরণ (Facial Recognition) করতে হবে ;
  • (গ)) কোন প্রার্থী পোর্টালে প্রবেশ করে পর্যায়ক্রমে মনোনয়ন, ব্যক্তিগত তথ্যাদি ও হলফনামা সংক্রান্ত তথ্যাদি এন্ট্রি করবেন এবং অনুচ্ছেদ ১২ এর অধীন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (হলফনামা, আয়কর প্রদান সংক্রান্ত কাগজপত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ) স্ক্যান করে Portable Document Format (পিডিএফ) আকারে সংযুক্ত করবেন ; তবে প্রযোজ্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন সম্বলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট সরাসরি দাখিল করতে হবে।
  • (ঘ) প্রার্থী পোর্টালে রক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করে জামানত বাবদ নির্ধারিত অর্থ প্রদান করার পর মনোনয়নপত্রটি দাখিল করবেন।
  • (ঙ) রিটার্নিং অফিসার অনলাইনে প্রাপ্ত প্রত্যেকটি মনোনয়নপত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃজিত/প্রদত্ত
  • (চ) ক্রমিক নম্বর অনুসারে পঞ্চম খন্ড মোতাবেক মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের স্থান, তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবেন এবং প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ ও বাছাইয়ের নোটিশ অনলাইনে প্রার্থীকে প্রেরণ করবেন ।

মনোনয়নপত্র দাখিলের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রার্থীর প্রদত্ত মোবাইল ফোনে মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রাপ্তি স্বীকার, মনোনয়নপত্র বাছাই-এর স্থান ও তারিখ, মনোনয়নপত্র বাছাই এর সিদ্ধান্ত, প্রার্থীতা প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি পর্যায়ক্রমে এসএমএস এর মাধ্যমে প্রেরণ করা হবে এবং উল্লিখিত তথ্যাদি পোর্টালেও প্রদর্শিত হবে।

৮। মনোনয়নপত্র গ্রহণ :

মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের মূল দায়িত্ব, কর্তব্য। রিটার্নিং অফিসার প্রয়োজনবোধে অনলাইনে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রাদির মূল কপি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের নির্ধারিত দিনে তাঁর নিকট দাখিল করার নির্দেশনা প্রদান করতে পারবেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন অথবা তফসিল ঘোষণার পর হতে শেষ দিনের পূর্ববর্তী যে কোন দিনে রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিল করতে আসলে তিনি তা গ্রহণ করবেন। মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার সময় মনোনয়নপত্রের নির্ধারিত স্থানে ক্রমিক নম্বর প্রদান করতে হবে। এ লক্ষ্যে ক্রমিক নম্বরের আগে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গৃহীত ক্রমিক নম্বরের পূর্বে রিঅ- এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গৃহীত সরিঅ- প্রদান করলে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে। একজন প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র এক স্থানে জমা দিলে সেক্ষেত্রে প্রথমে একটি পূর্ণ নম্বর প্রদান করে অন্যান্য কপিতে বন্ধনীতে যথাক্রমে (ক), (খ) অথবা (১), (২) ইত্যাদি প্রদান করা যেতে পারে।

৯। জামানতঃ

মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থী স্বয়ং কিংবা প্রার্থীর পক্ষে বিধিতে বর্ণিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে জামানত হিসেবে—

  • (ক) নগদ বা ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা মনোনয়নপত্রের সাথে রিটার্নিং অফিসার/সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট জমা দিতে হবে ; অথবা
  • (খ) জামানত হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কোন শাখায় অথবা যে কোন ব্যাংক অথবা সরকারি ট্রেজারী অথবা সাব ট্রেজারীতে ৬/০৬০১/000১/৮৪৭৩ নম্বর অথবা সর্বশেষ সংশোধিত ১০৯০৩0২১০১৪৪৩-৮১১৩৫০১ কোডে জমা দিতে হবে। একটি নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীর অনুকূলে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল হলে সে প্রার্থীর অনুকূলে শুধু একটি মাত্র জামানত প্রদান করতে হবে। অন্য মনোনয়নপত্রের সাথে চালান/রসিদ এর সত্যায়িত অনুলিপি প্রদান করতে হবে।
  • (গ) জামানত বাবদ ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা ব্যতীত মনোনয়নপত্র দাখিলকারী/ প্রার্থীর নিকট হতে অন্য কোন রকমভাবে অতিরিক্ত কোন অর্থ আদায় বা প্রদান করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ।
  • ১০। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ :

রিটার্নিং অফিসার প্রাপ্ত প্রত্যেক মনোনয়নপত্রে ক্রমিক নম্বর দেবেন, মনোনয়নপত্রে দাখিলকারীর নাম, মনোনয়নপত্র প্রাপ্তির সময় ও তারিখ লিপিবদ্ধ করবেন। রিটার্নিং অফিসার কখন, কোন তারিখে ও কোথায় মনোনয়নপত্র বাছাই করবেন তা সংশ্লিষ্ট মনোনয়নপত্র দাখিলকারীকে অবহিত করবেন এবং মনোনয়নপত্র প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ মনোনয়নপত্র দাখিলকারীর নিকট হস্তান্তর করবেন।

উল্লেখ্য যে, প্রাপ্তি স্বীকার রসিদটি মনোনয়নপত্রের সাথে সংযোজিত আছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট যে মনোনয়নপত্র দাখিল হবে সেক্ষেত্রেও সহকারী রিটার্নিং অফিসার অনুরূপভাবে প্রত্যেক মনোনয়নপত্রে ক্রমিক নম্বর দিবেন, মনোনয়নপত্রে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীর নাম, মনোনয়নপত্র প্রাপ্তির সময় ও তারিখ লিপিবদ্ধ করে মনোনয়নপত্র প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ মনোনয়নপত্র দাখিলকারীর নিকট হস্তান্তর করবেন।

প্রাপ্তি স্বীকার রসিদে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র কখন, কোন তারিখে এবং কোথায় বাছাই করা হবে তাও উল্লেখ থাকতে হবে। উল্লেখ্য যে, মনোনয়নপত্র দাখিলকারীকে রিটার্নিং অফিসার কখন, কোন তারিখে এবং কোথায় মনোনয়নপত্র বাছাই করবেন তা জানিয়ে দেবেন। অনলাইনে প্রাপ্ত মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিষয়ে মনোনয়ন ফরমের  পঞ্চম খন্ড (প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ ও বাছাই এর নোটিশ) পূরণ করে পিডিএফ ফাইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে তাহার ইমেইলে প্রেরণ করবেন।

১১। সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র :

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে মনোনয়নপত্র বাছাই করার ক্ষমতা রিটার্নিং অফিসারের উপর অর্পিত ; ফলে রিটার্নিং অফিসারের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসারগণ তাদের কাছে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রসমূহ মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়-সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরই যাতে সতর্কতার সাথে রিটার্নিং অফিসারের নিকট প্রেরণ করেন, সে বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসারগণকে নির্দেশ প্রদান করবেন।

১২। মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ :

আদেশের ১২ অনুচ্ছেদের (৭) দফা অনুসারে রিটার্নিং অফিসারকে তার নিকট দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট হতে প্রাপ্ত প্রত্যেক মনোনয়নপত্রে উল্লিখিত প্রার্থীর নাম, প্রস্তাবকারীর নাম এবং সমর্থনকারীর নাম ইত্যাদি মনোনয়নপত্রে যেরূপ উল্লেখ রয়েছে তার বিবরণী সম্বলিত নোটিশ তাঁর কার্যালয়ের কোন দর্শনীয় স্থানে টাঙ্গিয়ে জারী করতে হবে।

১৩। মনোনয়নপত্র বাছাই :

দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বাছাই করাও রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব, কর্তব্য। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের নির্দিষ্ট দিনে রিটার্নিং অফিসার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১৪ অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের কাজ শেষ করবেন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় আইন অনুসারে প্রার্থীগণ, তাদের নির্বাচনি এজেন্টগণ, প্রস্তাবকারী এবং সমর্থনকারী এবং প্রার্থী কর্তৃক নিযুক্ত (তিনি আইনজীবীও হতে পারেন) অন্য কোন ব্যক্তি উপস্থিত থাকতে পারবেন।

তারা যদি মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করে দেখতে চান তবে তাঁদের যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করতে হবে। উপস্থিত সকলের সম্মুখে রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন এবং কেউ কোন মনোনয়নপত্র সম্বন্ধে আপত্তি উত্থাপন করলে তা নিষ্পত্তি করবেন। তাছাড়াও কোন আপত্তির ভিত্তিতে অথবা স্বউদ্যোগে যুক্তিযুক্ত মনে করলে যে কোন মনোনয়নপত্রের বৈধতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত অনুসন্ধান করতে পারবেন।

১৪। বাছাইয়ের সময় বিবেচ্য বিষয় : 

মনোনয়নপত্র বাছাইকালে রিটার্নিং অফিসার নিম্নলিখিত প্রধান প্রধান বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেবেন। ইহা রিটার্নিং অফিসারের মূল কাজ।  

  • (ক) প্রার্থী সংসদ নির্বাচনের যোগ্য কিনা ;
  • (খ) প্রস্তাবকারী/সমর্থনকারী মনোনয়নপত্রে প্রস্তাব/সমর্থন করার যোগ্য কিনা ;
  • (গ) আদেশ-এর ১২ বা ১৩ অনুচ্ছেদের বিধানসমূহ যথাযথভাবে পালিত হয়েছে কিনা ;
  • (ঘ) প্রার্থী এবং প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষর সঠিক কিনা।
  • (ঙ) সম্পদ বিবরণী সম্বলিত সর্বশেষ দাখিলকৃত আয়কর বিবরণী দাখিলের প্রমাণ সংক্রান্ত কাগজপত্র ।

১৫। সারবত্তাহীন ত্রুটির জন্য মনোনয়নপত্র বাতিল না করা :

ছোটখাট ত্রুটির জন্য কোন মনোনয়নপত্র বাতিল করা যাবে না। যদি বাছাইয়ের সময় এমন কোন ত্রুটি বিচ্যুতি নজরে আসে যা তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন সম্ভব, তা হলে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীর দ্বারা তা সংশোধন করিয়ে নিতে হবে। কোন প্রার্থীর একটি মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণে ঐ প্রার্থীর অন্য কোন বৈধ মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে না। অর্থাৎ শুধুমাত্র একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তাঁর প্রার্থীপদ অটুট থাকবে।

যদি কোন প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তবে বাছাইয়ের সময় একটি মনোনয়নপত্র বৈধ পাওয়া গেলে অন্য মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের প্রয়োজন হবে না। মনোনয়নপত্র গ্রহণ অথবা বাতিল প্রসংগে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত মনোনয়নপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে লিপিবদ্ধ করতে হবে। উল্লিখিত আদেশ-এর ১৪ অনুচ্ছেদে (৩) দফার (ডি) উপ দফার (iii) নং শর্ত অনুসারে ভোটার তালিকার কোন অন্তর্ভুক্তির শুদ্ধতা অথবা বৈধতার প্রশ্নে কোন অনুসন্ধান চালানো যাবে না। তবে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, হলফনামায় উল্লিখিত কোন তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না ।

১৬। বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ :

বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হলো রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব, কর্তব্য।  আদেশের ১৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর যে সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হবে তাঁদের বিবরণী নির্ধারিত ৪নং ফরমে বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীর তালিকায় সন্নিবেশিত করে প্রকাশ করতে হবে। প্রকাশিত তালিকা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের দর্শনীয় স্থানে টাঙ্গিয়ে জারী করতে হবে এবং উক্ত তালিকার একটি অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও প্রেরণ করতে হবে। আপিল করা হলে আপিলের সিদ্ধান্ত/ ফলাফলের ভিত্তিতে বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীর তালিকায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

১৭। মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল :

আদেশ এর ১৪ এর দফা (৫) এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি-৫ অনুসারে মনোনয়পত্র বাছাই অন্তে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন সিদ্ধান্তে কোন প্রার্থী বা কোন ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্ষুব্ধ হলে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর সংক্ষুব্ধ পক্ষ অথবা তকর্তৃক এতদ্‌উদ্দেশ্যে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি আপীল দায়ের করতে পারবেন।

  • (ক) কমিশনকে সম্বোধন করে কমিশন সচিবালয়ের সচিবের নিকট আপীল দায়ের করতে হবে।
  • (খ) আপীল স্মারকলিপি আকারে হবে এবং উহাতে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপীলের কারণ সম্বলিত বিবৃতি এবং তর্কিত আদেশের একটি সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে।
  • (গ) স্মারকলিপি আকারে দায়েরকৃত আপীলের একটি মূল কপিসহ মোট [সাতটি] কপি দাখিল করতে হবে।
  • (ঘ) কমিশন সংক্ষিপ্তভাবে অথবা যেভাবে উপযুক্ত বিবেচনা করেন সেভাবে আপীল নিষ্পত্তি করবেন।
  • (ঙ) আপীল মঞ্জুরের ক্ষেত্রে, কমিশনের আদেশক্রমে, বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীগণের তালিকা সংশোধন করতে হবে।

১৮। বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীর তালিকা সংশোধন :

আদেশ এর অনুচ্ছেদ ১৪ দফা (৫) ও বিধি-৬ অনুসারে আপিল মঞ্জুর করা হলে অনুচ্ছেদ ১৫ দফা (২) অনুযায়ী কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীগণের তালিকা সংশোধন করতে হবে। বৈধভাবে মনোনীত সংশোধিত প্রার্থী তালিকা—

  • (ক) জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে দর্শনীয় স্থানে টাঙ্গিয়ে জারী করতে হবে।
  • (খ) নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করতে হবে।

১৯। প্রার্থীপদ প্রত্যাহার :

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১৬ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে যে কোন বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী লিখিত এবং স্বাক্ষরিত নোটিশের মাধ্যমে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়-সীমার মধ্যে অথবা তার পূর্বে নিজে অথবা লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের নিকট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।

অপরদিকে ১৬ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুসারে যেক্ষেত্রে কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল একটি নির্বাচনি এলাকায় একের অধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান বা সচিব বা সমপদমর্যাদার কার্যনির্বাহী কর্তৃক স্বাক্ষরিত লিখিত পত্রের মাধ্যমে তিনি নিজে বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত সময়-সীমার মধ্যে অথবা তার পূর্বে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করবেন এবং সেক্ষেত্রে উক্ত দলের অন্যান্য মনোনীত প্রার্থী আর প্রার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না ।

দফা (৩) অনুসারে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য লিখিত নোটিশ দেয়া হলে বা রাজনৈতিক দল কর্তৃক প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হলে কোন অবস্থাতেই তা ফেরত বা বাতিল করা যাবে না।

দফা (৪) অনুসারে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নোটিশ এবং রাজনৈতিক দল কর্তৃক চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হলে রিটার্নিং অফিসার যদি সন্তুষ্ট হন যে স্বাক্ষর সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বা দলের চেয়ারম্যান বা সমপদমর্যাদার কার্যনির্বাহীর তবে রিটার্নিং অফিসার উক্ত নোটিশের একটি অনুলিপি তার কার্যালয়ে দর্শনীয় স্থানে টাঙ্গিয়ে জারী করবেন।

২০। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ :

নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দের পর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১৬ এর দফা (৫) এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৭ অনুসারে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পরবর্তী দিন বিধিমালায় বর্ণিত ৫নং ফরমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা ভাষার বর্ণানুক্রমে সাজিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তালিকা—

  • (ক) উক্ত তালিকা রিটার্নিং অফিসারকে দর্শনীয় স্থানে প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • (খ) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নামের বিপরীতে বরাদ্দকৃত প্রতীক সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

২১। প্রার্থীর মৃত্যু :

প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন নাই এমন কোন বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করিলে বা ৯১ই (Article-91E) অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত কারণে প্রার্থিতা বাতিল হলে রিটার্নিং অফিসারকে গণবিজ্ঞপ্তি দ্বারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম বাতিল করতে হবে। এ বিষয়ে নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে :

  • (ক) নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল সংক্রান্ত রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে।
  • (খ) রিটার্নিং অফিসারের নিকট হতে অবহিত হওয়ার পর কমিশন উক্ত নির্বাচনি এলাকার জন্য নতুন নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করবেন যার পরিপ্রেক্ষিতে রিটার্নিং অফিসার কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠানে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। তবে ইতিপূর্বে যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, তাদের নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে না । 

২২। কতিপয় কারণে নির্বাচনি কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিতকরণে রিটার্নিং অফিসারের ক্ষমতা :

রিটার্নিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে যদি মনোনয়নপত্র গ্রহণ, বাছাই অথবা প্রার্থিতা প্রত্যাহার সম্পর্কিত কাজ নির্দিষ্ট দিনে সম্পন্ন না করা যায়, তবে আদেশের ১৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে তিনি উল্লিখিত কার্যক্রম বাতিল অথবা মুলতুবি করতে পারবেন। পরবর্তীতে কমিশনের অনুমোদনক্রমে, বাতিলকৃত অথবা মুলতুবি কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারকে নতুন তারিখ ধার্য করতে হবে।

২২। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন :

আদেশের অনুচ্ছেদ ১৪ এর অধীন মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর যদি কেবলমাত্র একজন বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী থাকেন অথবা অনুচ্ছেদ ১৬ অনুসারে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর যদি কেবলমাত্র একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকেন, তাহলে অনুচ্ছেদ ১৯-এর বিধান অনুসরণ করে উক্ত প্রার্থীকে রিটার্নিং অফিসার গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর কোন প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধার্যকৃত সময়সীমার মধ্যে আপিল দায়ের না করলে একমাত্র বৈধ প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা যাবে, অথবা আপিল দায়ের হলে কমিশন কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২৩। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীর রিটার্ন প্রেরণঃ

যদি একমাত্র প্রার্থীকে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়, তবে ঘোষণার পর আদেশের অনুচ্ছেদ ১৯-এর দফা (২)-এর বিধান অনুসারে রিটার্নিং অফিসারকে নির্বাচন কমিশনের নিকট একটি রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

২৪। ভোটগ্রহণের দিন ও সময় নির্ধারণ :

আদেশের ২৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ সাপেক্ষে, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করতঃ গণবিজ্ঞপ্তি জারী করার বিধান রয়েছে। নির্বাচনের সময়সূচি জারীর পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে কোন সময়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ করা হবে তা রিটার্নিং অফিসার গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবহিত করা হলো রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব, কর্তব্য এর মধ্যে পড়ে। 

শেষকথাঃ

সুপ্রিয় পাঠক, আমি এখানে আপনাদের জন্য আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আলোকে রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব, কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনি যদি এখানে রিটার্নিং অফিসারের কাজগুলি সম্পর্কে পড়ে থাকেন তাহলে নির্বাচন পরিচালনা অনেকাংশে ভাল হবে। 

 

Visited 125 times, 1 visit(s) today

Leave a Comment

You cannot copy content of this page