বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস | এক পোস্টেই সব সাধারণ জ্ঞান

সুপ্রিয় চাকরিপ্রার্থীবৃন্দ, কেমন আছেন সবাই? আজ আমি আপনাদের জন্য বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনারা জেনে থাকবেন যে, বর্তমান বাংলাদেশ সরকার দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশে অনেক মেগা প্রজেক্ট গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে কিছু প্রজেক্ট সফলতার মুখ দেখেছে। এসব প্রজেক্ট থেকে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় বিশেষ করে বিসিএসে অনেক প্রশ্ন এমসিকিউ/ লিখিত আকারে এসে থাকে। তাই সেখান থেকেই বিভিন্ন বাছাইকৃত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আজ এই আয়োজন।

বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস | এক পোস্টেই সব সাধারণ জ্ঞান
বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস | এক পোস্টেই সব সাধারণ জ্ঞান

বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস

বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস এ অনেক প্রশ্ন এসে থাকে। সাধারণ জ্ঞানের সবচেয়ে কমন প্রশ্নের মধ্যে ১-২ টা প্রশ্ন আসেই। তাই এসব প্রজেক্ট যদি মনযোগ দিয়ে পড়েন তাহলে নিশ্চিত একটা প্রশ্ন কমন পাবেন। আসুন দেখে নিই মেগা প্রজেক্টগুলো।

আরো পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান । এক পোস্টেই সব পাবেন

পায়রা সমুদ্রবন্দর

পায়রা সমুদ্রবন্দর হলো বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত।

  • পায়রা বন্দর বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের তৃতীয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার ২য় সামুদ্রিক বন্দর।
  • অবস্থান পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রামনাবাদ চ্যানেল নদীর তীরে।
  • বাংলাদেশের ১ম গভীরতম সমুদ্রবন্দর হলো পায়রা সমুদ্রবন্দর।
  • “পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৩” গেজেট আকারে প্রকাশ পায়-১০ নভেম্বর, ২০১৩ সালে।
  • সমুদ্র বন্দরটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়-১৩ আগস্ট, ২০১৬ সালে।
  • আয়তন ১৬ একর জায়গায়।
  • ব্যয়-১৬ বিলিয়ন ডলার।
  • অর্থায়ন নিজস্ব।
  • চালু হবে-২০২৩ সালে এবং সম্পূর্ণ চালু হবে-২০৩৫ সালে।

আরো দেখুন: ১০০% নির্ভুল (ব্যাখ্যাসহ পিডিএফ) প্রথম ধাপের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক প্রশ্ন সমাধান 2023

মাতারবাড়ি বন্দর

মাতারবাড়ী হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে গভীর সমুদ্রবন্দর আর ইহাকে বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস এর মধ্যে অন্যতম হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।

  • মাতারবাড়িই হচ্ছে বাংলাদেশের ৪র্থ সমুদ্র বন্দর।
  • অবস্থান-চট্টগ্রাম বিভাগের, কক্সবাজার জেলার, মাতারবাড়ি অঞ্চলে।
  • ব্যয়-১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা।
  • গভীরতা- ১৬ মিটার।
  • চ্যানেলের দৈর্ঘ্য-১৪.৩ কিলোমিটার (৮.৯ মাইল)।
  • চ্যানেলের প্রন্থ-৩৫০ মিটার (১,১৫০ ফুট)।
  • চালু হবে-২০২৬ সালে।

মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হল বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস এর  একটি কয়লা ভিত্তিক প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

  • অবস্থান-মাতারবাড়ি, মহেশখালী উপজেলা, কক্সবাজার জেলা।
  • উৎপাদন ক্ষমতা-১২০০ মেগাওয়াট।
  • ব্যয়-৫১ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা।
  • অর্থায়ন-জাইকা (৪৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা) এবং সরকারি তহবিল (৬ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা)।

রামপাল তাপ বিদুৎকেন্দ্র

রামপাল তাপ বিদুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস এর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার রামপালে অবস্থিত একটি প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

পড়তে পারেন: [আজকে অনুষ্ঠিত] ট্যুরিজম বোর্ডের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক প্রশ্ন সমাধান

  • অবস্থান-সাপমারী, রামপাল উপজেলা, বাগেরহাট জেলা।
  • উৎপাদন ক্ষমতা-১৩২০ মেগাওয়াট।
  • ব্যয়-১৬ হাজার কোটি টাকা।
  • আয়তন-১৮৩৪ একর জমি।
  • দুরত্ব-বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মিত হবে সুন্দরবনের থেকে ১৪ কিলোমিটার উত্তরে। সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে পশুর নদীর তীরে।
  • মালিকানা-ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন (ভারত) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাংলাদেশ)।

রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে ২.৪ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পরিকল্পিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস এ আসেই এখান থেকে।

  • * অবস্থান-পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর নামক স্থানে।
  • * উৎপাদন ক্ষমতা-২১৬০ মেওগাওয়াট।
  • * ব্যয়-১,১৩,০৯,২৯১ কোটি টাকা।
  • * নির্মাণ শুরু ২০০৯ সালে।
  • * নির্মাণ সংস্থা-রাশিয়ার রোসাটোম স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্মিত হচ্ছে।
  • * মালিকানা-বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।
  • * অর্থায়ন-রাশিয়া।

মেট্রোরেল প্রকল্প

বাঁচবে সময়, বাঁচবে পরিবেশ যানজট কমাবে মেট্রোরেল (Moving People Saving Time and Environment) স্লোগানে বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় নির্মাণাধীন শহরভিত্তিক রেল ব্যবস্থা হচ্ছে ঢাকা মেট্রো যা আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাস rapid র‍্যাপিড ট্রানজিট বা সংক্ষেপে এমআরটি (MRT) নামে পরিচিত।

  • * উদ্বোধন-২৬ জুন, ২০১৬ সালে।
  • * দৈর্ঘ্য-২০.১ কিলোমিটার।
  • * দুরত্ব- উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত।
  • * লাইন-এমআরটি লাইন ৬ (MRT Line-6)
  • * যাত্রী ধারণ ক্ষমতা-৬০,০০০ (প্রতি ঘণ্টায়)।
  • * স্টেশন সংখ্যা ১৬টি। যথাঃ-উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল।
  • * অর্থায়ন- জাইকা ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা (৭৫ শতাংশ ঋন প্রদান করে জাপান) এবং সরকারি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা (২৫শতাংশ)।
  • * স্লোগান ‘বাঁচবে সময়, বাঁচবে তেল, জ্যাম কমাবে মেট্রোরেল’।
  • • মোট ব্যয়-২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
  • * উওরা টু মতিঝিল সময় লাগবে-৩৫ মিনিট।
  • * পিলারের উচ্চতা-১৩ মিটার।
  • * পিলার থেকে পিলারের দূরত্ব (৩০-৪০ মিটার)।
  • • বিদ্যুৎ ব্যয় হবে-১৩.৪৭ মেগাওয়াট।
  • * প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা-১৭৩৮ জন।
  • * প্রথম মেট্রোরেল পরীক্ষামূলক চালু হয় ২৯ আগস্ট, ২০২১ সালে যো পারফরম্যান্স টেস্ট নামে পরিচিত)।
  • * মেট্রোরেলের নকশা প্রনয়ণ ও তৈরির দায়িত্বে রয়েছে জাপানের কাওয়াসাকি মিতসুবিশি কনসোটিয়াম।

পদ্মা বহুমুখী রেল সেতু

বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস এর মধ্যে পদ্মা বহুমুখী রেল সেতু সবচেয়ে বেশি আলোচিত। নিচে এই রেল সেতু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

  • ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সাথে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
  • * অবস্থান-ঢাকা থেকে যশোর।
  • * বর্ধিত ব্যয়-৩৯ কোটি ২৪৬ কোটি টাকা।
  • * অর্থায়ন- এক্সিম ব্যাংক, চীন।
  • * রেলপথের ধরন- ব্রডগেজ রেলপথ।
  • *রেলপথের ভায়াডাক্টের দৈর্ঘ্য-২২ কিলোমিটার।
  • * স্টেশন সংখ্যা-২০ টি। যথাঃ-কেরানীগঞ্জ, নিমতলা, শ্রীনগর, মাওয়া, জাজিরা, শিবচর, ভাঙ্গা, নাগরকান্দা, মুকসুদপুর, মহেশপুর, লোহাগড়া, নড়াইল, পদদ্মবিলা এবং জামদিয়া।
  • * মোট অতিক্রান্ত জেলা-১০ টি। যথাঃ- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, যশোর এবং খুলনা।

পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস এর মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আপনাদের জন্য পদ্মা সেতুর উপর কিছু প্রশ্নোত্তর পেশ করা হলো।

১। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর প্রকল্পের নাম কি?

উত্তর: পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প

২। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত?

উত্তর: ৬.১৫ কিলোমিটার।

৩। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর প্রন্থ কত?

উত্তর: ৭২ ফুটের চার লেনের সড়ক।

৪। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুতে রেললাইন স্থাপন হবে কোথায়?

উত্তর: নিচ তলায়।

৫। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট কত কি.মি.?

উত্তর: ৩.১৮ কিলোমিটার

৬। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক কত কিলোমিটার?

উত্তর: দুই পাড়ে ১৪ কিলোমিটার।

৭। প্রশ্ন:পদ্মা সেতুর প্রকল্পে নদী শাসন হয়েছে কত কিলোমিটার?

উত্তর: দুই পাড়ে ১২ কিলোমিটার।

৮। প্রশ্ন: পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ব্যয় কত?

উত্তর: মূল সেতুতে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

৯। প্রশ্ন: পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদী শাসনে ব্যয় কত?

উত্তর: ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা

১০। প্রশ্ন: পদ্মা সেতু প্রকল্পে জনবল কত জন?

উত্তর: প্রায় ৪ হাজার।

১১। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট পিলার কয়টি?

উত্তর: ৮১ টি।

১২। প্রশ্ন: পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা কত?

উত্তর: ৬০ ফুট।

১৩।প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর পাইলিং গভীরতা কত?

উত্তর: ৩৮৩ ফুট।

১৪। প্রশ্ন: প্রতি পিলারের জন্য পাইলিং কয়টি?

উত্তর: ৬টি।

১৫। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর পাইলিং সংখ্যা কত?

উত্তর: ২৬৪ টি।

১৬। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুতে কি কি থাকবে?

উত্তর:গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার লাইন পরিবহন সুবিধা।

১৭। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর ধরণ কেমন?

উত্তর: দ্বিতলবিশিষ্ট এই সেতু কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে নির্মিত হবে।

১৮। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর পিলার সংখ্যা কত?

উত্তর: ৪২ টি।

১৯। প্রশ্ন: পদ্মা সেতু প্রকল্পে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির নাম কি?

উত্তর: চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।

২০। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যানটি বসানো হয় কবে?

উত্তর: ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।

২১। প্রশ্ন: শেষ / ৪১ তম স্প্যানটি বসানো হয় কোথায়?

উত্তর: ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির উপর।

২২। প্রশ্ন: প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য কত?

উত্তর: ১৫০ মিটার।

২৩। প্রশ্ন: সংযোগকারী স্থান সমূহ কি কি?

উত্তর: মুন্সিগঞ্জের মাওয়া এবং শরিয়তপুরের জাজিরা।

২৪। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয়েছিল কত সালে?

উত্তর: ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে।

২৫। প্রশ্ন: প্রতিটি স্প্যানের ওজন কত?

উত্তর: ৩২০০ টন।

২৬। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানো হয় কোন দিবসে?

উত্তর: বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে।

২৭। প্রশ্ন: নদীর উপর নির্মিত বিশ্বের প্রথম দীর্ঘ তম সেতু?

উত্তর: পদ্মা সেতু।

২৮। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে কখন?

উত্তর: ২০২১ সালের ডিসেম্বরে।

২৯। প্রশ্ন: ৪১ টি স্প্যান বসাতে সময় লাগে কত দিন?

উত্তর: ৩ বছর ২ মাস ১০ দিন।

৩০। প্রশ্ন: সংযোগ স্থাপন করে কতটি জেলার সাথে?

উত্তর: মোট ২৯ টি জেলার সাথে।

৩১। প্রশ্ন:পদ্মা সেতুর নকশা করেন কোন প্রতিষ্ঠান?

উত্তর: AECOM

৩২। প্রশ্ন: পদ্মা সেতুর স্থানাঙ্ক?

উত্তর: ২৩.৪৪৬০ ডিগ্রী উত্তর ৯০.২৬২৩ ডিগ্রী পূর্ব।

বঙ্গবন্ধু ট্যানেল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল বা বঙ্গবন্ধু টানেল বা বঙ্গবন্ধু সুড়ঙ্গ বা কর্ণফুলী সুড়ঙ্গ হল কর্ণফুলী নদীর নিচে অবস্থিত নির্মাণাধীন সড়ক সুড়ঙ্গ। বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস এও অনেক প্রশ্ন আসা দেখা যায়।

  • * বাংলাদেশের প্রথম সুড়ঙ্গ পথ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নদী তলদেশের প্রথম ও দীর্ঘতম সড়ক সুড়ঙ্গপথের নাম কি-বঙ্গবন্ধু টানেল।
  • * অবস্থান-চট্টগ্রাম বিভাগ, বাংলাদেশ।
  • * নির্মাণ শুরু-২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
  • * নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান-চায়না কমিউনিকেশন এ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি)।
  • * দৈর্ঘ্য-৩.৪৩ কিলোমিটার।
  • * গভীরতা-১৫০ ফুট।

অর্থায়ন ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে চীনের রাষ্ট্রপতি শি চিনফিংয়ের ঢাকা সফরে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী চীনের এক্সিম ব্যাংক ২০ বছর মেয়াদি ঋণ হিসাবে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা দিচ্ছে। বাকি অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকার করছে।

* বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে ব্যয় হবে ৯ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা।

* সংযোগ-ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২

স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-২ হলো বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস এর অনেক কমনপ্রাপ্ত একটি টপিক।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ কবে উৎক্ষেপণ করতে চায় সরকার- ২০২৩ সালে।

  • * ধরন-‘ডেভেলপ স্যাটেলাইট সিস্টেমস প্রোভাইডিং বোথ অপটিক্যাল অ্যান্ড সার ক্যাপাবিলিটিস (১৫ অপটিক্যাল অ্যান্ড ১ সার স্যাটেলাইটস)’।
  • * ব্যয়-৩৭০৭ কোটি টাকা (৪৩৫ মিলিয়ন ডলার)।
  • * বিশেষত্ব-অপটিক্যাল রাডার ইমেজ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করা।
  • * চুক্তি-রাশিয়ার সঙ্গে জি টু জি পদ্ধতি।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে বাংলোদশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • * অবস্থান-ঢাকা, বাংলাদেশ।
  • *সংযোগ সড়ক-শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি হয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী এলাকা পর্যন্ত।
  • * ব্যয়-৬১২২ বিলিয়ন টাকা।
  • * দৈর্ঘ্য-৪৬.৭৩ কিলোমিটার।
  • * চুক্তি-থাই ডেভোলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড ১১.০৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে চায়না রেলওয়ে কন্সট্রাকসন কর্পোরেশন এর সঙ্গে এক্সপ্রেক্সওয়েটি নির্মানের জন্য।

বাংলাদেশের ২য় ভাসমান এলএনজি

Excelerate Energy Bangladesh Limited (EEBL) কর্তৃক স্থাপিত MLNG টার্মিনালটি হলো বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস এর বেস্ট টপিক।

  • * চুক্তি স্বাক্ষর ১৮ জুলাই, ২০১৬।
  • * বাস্তবায়নঃ Build Own Operate and Transfer (BOOT) ভিত্তিতে
  • * অবস্থানঃ কক্সবাজারের মহেশখালীতে।
  • Floating Storage Re-gasification Unit (FSRU) এর নামঃ Excellence.
  • * আকারা দৈর্ঘ্যে ২৭৭ মিটার, প্রন্থে ৪৪ মিটার এবং ড্রাফট ১২.৫ মিটার।
  • * ধারনক্ষমতাঃ ১৩৮,০০০ ঘনমিটার।
  • * রিগ্যাসিফিকেশন ক্যাপাসিটিঃ ৫০০ এমএমএসসিএফডি।
  • * চুক্তির মেয়াদঃ ১৫ (পনের) বছর (২০১৮-২০৩২)।
  • * গ্যাস সরবরাহ শুরু: ১৯ আগস্ট, ২০১৮।
  • * শুরু থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের পরিমান: ৩৪২,০৩৪.১২ এমএমএসসিএফ
  • * টার্মিনাল হস্তান্তরঃ ১৫ বছর পর কোন ধরনের চার্জ গ্রহন ব্যাতিত FSRU টি EEBL পেট্রোবাংলার নিকট হস্তান্তর করবে।

শেষকথা: 

প্রিয় পাঠক, বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্ট সমূহ বিসিএস নিয়ে বিস্তারিত জানানো হলো। যদি এখানে উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে ভুল থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

Visited 2,298 times, 1 visit(s) today

Leave a Comment

You cannot copy content of this page